স্থল-ভিত্তিক যুদ্ধ ক্ষমতা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে দেশীয়ভাবে ছোট আকারের ড্রোনের উন্নয়ন ও তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যা এই বাহিনীর ডকট্রিনাল (মতবাদগত) পরিবর্তনের ইংগিত দিচ্ছে। এই উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্যে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ওয়েবসাইট বিডিমিলিটারি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী স্বল্প ব্যয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও আঞ্চলিক হুমকি পরিবেশের উপযোগী ড্রোন তৈরি করার ব্যাপারে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে দুটি ভূমিকা পালনের জন্য ড্রোনগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। এগুলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং শত্রু এলাকায় রেকি (আইএসআর) করার পাশাপাশি শত্রুসেনা ও শত্রুর হালকা যানবাহনের উপর ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেড ও লো-ইল্ড মর্টার হামলা চালাতে পারবে।
বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি গুনিতক হারে বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন আকারের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করে অতি অল্প খরচে শত্রুর মূল্যবান প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়া যাচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রভাব স্পষ্ট। সেখানে গতানুগতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ১০,০০০ মার্কিন ডলারেরও কম দামের ছোট এফপিভি (ফার্স্ট পারসন ভিউ) ড্রোন দিয়ে সফলভাবে শত্রুর মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক (এমবিটি) এবং ফিল্ড কমান্ড পোস্ট ধ্বংস করা হচ্ছে।
সিরিয়া, ইরাক ও নাগোর্নো কারাবাখে তুরস্কের এসটিএম কোম্পানির তৈরি ‘লয়টারিং মিউনিশন্স এন্ড রিকনেসান্স ড্রোন’ প্রমাণ করেছে যে কৌশলগত স্তরে হালকা ড্রোন ব্যবহার করা গেলে তা পদাতিক ইউনিটগুলোর অভিযানের গতি এবং টিকে থাকার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করতে পারে।
মিয়ানমার সীমান্ত এবং ভারতের সাথে উত্তর ফ্রন্টে সক্রিয়, হালকা অস্ত্রে সজ্জিত অনিয়মিত বাহিনীগুলো বাংলাদেশের প্রাথমিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। এদের মোকাবেলায় ছোট আকারের কৌশলগত ড্রোনগুলো খুবই কার্যকর হবে। এই সিস্টেমগুলো আইএসআর সরবরাহ করবে, প্লাটুন বা কোম্পানি পর্যায়ের কমান্ডারদের কাছে স্থানিক ও শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য ও ছবি পাঠাবে। তাছাড়া স্বল্প খরচে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় এসব ড্রোন গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তা না নিয়ে বা সম্মুখ যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি ছাড়াই শত্রুর উপর অতর্কিত হামলা, ফরোয়ার্ড পোস্ট বা মর্টার বাহিনীকে দ্রুত ধ্বংস করতে পারবে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মতো প্রতিপক্ষ প্রচলিত রণকৌশলের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এই বাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরোধ ক্ষমতা – কোনটাই নেই। একইভাবে, সীমান্তে মোতায়েন করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী ইউনিটগুলো প্রায়শই সক্রিয় ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করে। প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলার মুখে তারা অসহায়। এই ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশলগত ড্রোনগুলো কেবল একটি কৌশলগত সুবিধাই দেবে না বরং প্রতিরোধমূলক সুবিধাও দিবে।
সারা বিশ্বে সমপর্যায়ের অনেক সামরিক বাহিনী তাদের অস্ত্র ভাণ্ডার ড্রোন দিয়ে সমৃদ্ধ করছে। পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার কোর এবং নিয়মিত পদাতিক ইউনিটগুলো অস্থির পশ্চিমাঞ্চলে জন্য আইএসআর ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ভারত কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজগুলোতে বিদ্রোহ-দমন অভিযানে সীমিত সংখ্যক কোয়াডকপ্টার মোতায়েন শুরু করেছে। তবে, দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ড্রোন সংযুক্ত করার কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ফলে বাংলাদেশ সবার আগে ডিজিটালি নেটওয়ার্কযুক্ত, নির্ভুল হামলায় সক্ষম যুদ্ধকৌশল গ্রহণের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
দাম ও রক্ষণাবেক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ড্রোনগুলো অপারেশনাল মূল্য হবে বিশাল। যেখানে প্রচলিত আর্টিলারি বা বিমান সহায়তার জন্য ব্যাপক অবকাঠামো, সেনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, সেখানে মাত্র দুই-সদস্যের সেনাদলকে দিয়েই মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি কৌশলগত ড্রোন মোতায়েন করা যায়। যুদ্ধাস্ত্র, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ একটি আইএসআর-স্ট্রাইক ড্রোনের দাম সাধারণত ১০,০০০ ডলারের কম। আর যদি পুরো জীবনচক্রের খরচ বিবেচনা করা হয় তাহলে অবশ্যই একটি কামানের গোলা রক্ষণাবেক্ষণের খরচও এর চেয়ে বেশি। সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে যেখানে সেনাদলের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং সম্পদ সংরক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ধরনের একটি বা দুটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষতি হলেও কমান্ডাররা অভিযানের চাপ সহজেই সামলে নিতে পারেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার প্রতিফলন। কৌশলগত ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল একটি নতুন অস্ত্রই হাতে পাচ্ছে না বরং এতে তার সামরিক সংস্কৃতিও আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা অনুযায়ী পুননির্মিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ও ক্রমবর্ধমান হুমকির পরিবেশে, কৌশলগত ড্রোন তৈরিতে নিম্ন-মধ্য আয়ের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক ও দূরদর্শী ভাবনার ইংগিত দেয়।
চীন
ও পাকিস্তান ‘কারাকোরাম ২০২৬’ নামে একটি যৌথ
সামরিক মহড়া শেষ হয়েছে। চীনের
জিনজিয়াং প্রদেশের কোরলা শহরে ১৪ অক্টোবর এই মহড়া শুরু হয়। চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই প্রশিক্ষণের মূল
...
ইরানের
সেনাবাহিনী 'আরাশ' সিরিজের একটি উন্নত দূরপাল্লার
আক্রমণকারী ড্রোন উন্মোচন করেছে। এতে বড় আকারের
ওয়ারহেড এবং স্যাটেলাইটের ওপর
নির্ভরশীল নয় এমন নেভিগেশন
ব্যবস্থা যুক্ত করার দাবি করা
হয়েছে। এর...
৬ অক্টোবর, নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়োজিত ভার...
পাকিস্তান মঙ্গলবার
(৬ অক্টোবর) নিজস্ব প্রযুক্তিতে
তৈরি ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য
‘ফাতাহ-৪’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের
বর্ধিত সংস্করণের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ
সম্পন্ন করেছে।আন্তঃবাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর...
বাংলাদেশ
সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে
দেশটির সামরিক বাহিনী মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত
অন্তত ৩৩ জন নিহত
হয়েছে। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী ...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমা আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তিনটি
দেশ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে তিনি
জাপান ও সৌদি আরব
যাবেন দ্বিপক্ষীয় সফরে। আর জাতিসংঘের জলবায়ু
পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মে...
পররাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিমসটেকভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এড়িয়ে
আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই জোটকে আরও কার্যকর করতে পারস্পরিক
বিশ্বাস, রাজনৈতিক সদি...
দুই দেশের সম্পর্ক
সহজীকরণের স্বার্থে ভারতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ
অন্যান্য সব আসামিদের ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচা...
কম বয়সী শিশুদের সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে রাখতে
বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি থাকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে...
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চার দিনের সরকারি চীন সফরে বাণিজ্য ও সবুজ প্রযুক্তি
বিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রত্যা...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর সফল হয়েছে। এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক একটি ...