ভয়াবহ বন্যায় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং আরও অনেকে নিখোঁজ হওয়ার পর, বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করছে নেপাল।
নেপালের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল কান্তিপুর টিভিকে বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও
ভারত জলবায়ু পরিবর্তনে “অত্যন্ত বড়” অবদান রাখছে
এবং ছোট দেশগুলোকে “এর
মূল্য দিতে” বাধ্য করছে।
তিনি
বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে নেপালকে মাথা উঁচু করে
চলতে হবে এবং এটিকে
ন্যায়বিচারের বিষয়ে পরিণত করতে হবে। আমরা আন্তর্জাতিক
মঞ্চে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে
এবং জোরালোভাবে তুলে ধরব।”
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বিশাল শিলা
ও বরফ ধসের কারণে
সৃষ্ট ভটেকোশি নদী অববাহিকায় ২৬
আগস্টের আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়ায় নেপাল এই জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
সরকারিভাবে
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,১১৪ জনে
দাঁড়িয়েছে এবং প্রায় ৪,০০০ মানুষ এখনও
নিখোঁজ রয়েছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং অত্যাবশ্যকীয়
জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
নভেম্বরে
অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনের আগে এই দাবি
তোলা হয়েছে। সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলো
জলবায়ু-সম্পর্কিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার জন্য ধনী ও
উচ্চ-কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে আরও তহবিলের
জন্য চাপ দেবে বলে
আশা করা হচ্ছে।
নেপালের
এই উদ্যোগ উষ্ণায়নের সাথে সম্পর্কিত দুর্যোগের
আর্থিক ব্যয়ভার কে বহন করবে,
সেই বৃহত্তর বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ
করেছে।
২০০টি
আন্তর্জাতিক সংগঠনের নাগরিক সমাজ জোট ‘গ্লোবাল
ক্যাম্পেইন টু ডিমান্ড ক্লাইমেট
জাস্টিস’, ১ সেপ্টেম্বর এক
বিবৃতিতে বলেছে, “নেপাল দূষণকারীদের পক্ষে বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে না। বিশ্ব
যখন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো অব্যাহত রেখেছে, তখন নেপাল শুধুমাত্র
অভিযোজনের মাধ্যমে হিমালয়কে রক্ষা করতে পারে না।”
তারা
আরও বলেছে, “অন্যত্র সৃষ্ট একটি সংকট থেকে
নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য নেপালকে
আরও ঋণের বোঝা নিতে
বাধ্য করা উচিত নয়।”
ব্লুমবার্গ