জাপানের মোগামি-শ্রেণির ফ্রিগেট। ছবি: কিয়োডো

 

 

পেন্টাগনের চাহিদা মেটাতে আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাওয়ায় দেশের সামরিক নৌবহর সম্প্রসারণের জন্য ওয়াশিংটন তুরস্ক, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার ফ্রিগেটের নকশা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ আগস্ট একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরান্ডামে স্বাক্ষর করেন, যেখানে বিদেশি জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা এবং বিনিয়োগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনা কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে।

ইউএসএনআই নিউজ মঙ্গলবার এই বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে,

জানা গেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেটের সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের মধ্যে রয়েছেতুরস্কের ইস্তাম্বুল-শ্রেণি, জাপানের মোগামি-শ্রেণি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চুংনাম-শ্রেণি।

মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র রন ফ্ল্যান্ডার্সকে উদ্ধৃত করে ইউএসএনআই নিউজ জানিয়েছে, “প্রেসিডেন্ট নৌবাহিনীকে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা জোরালোভাবে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে আমাদের মিত্রদের প্রমাণিত জাহাজ নির্মাণ দক্ষতা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞতাকে কাজে লাগানোও অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সহযোগিতা “ফিনল্যান্ড মডেল অনুসরণ করতে পারে। এর ফলে, বিদেশি জাহাজ নির্মাতারা প্রথম দুটি জাহাজের কাঠামো নির্মাণ করবে এবং উৎপাদন আমেরিকান শিপইয়ার্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে মার্কিন সুবিধা, জনশক্তি, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিনিয়োগ করবে।

যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিদেশি অংশীদারের কাছ থেকে একটি বড় সারফেস কমব্যাট্যান্ট কিনবে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ছাড়পত্র না দিলে নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের বড় জাহাজগুলো দেশীয় শিপইয়ার্ডে তৈরি করতে হয়। নৌবাহিনী অবশ্য বিদেশি-নির্মিত সহায়ক বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংগ্রহ করতে পারে।

আগস্ট মাসের হোয়াইট হাউসের স্মারকলিপিতে, ট্রাম্প এই ছাড়পত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, “ফিনল্যান্ড মডেল-এর অধীনে বিদেশি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন। এই মডেলটি প্রথম কোস্টগার্ডের মাঝারি আকারের আইসব্রেকার প্রোগ্রামে ব্যবহৃত হয়েছিল, যার অধীনে ফিনিশ শিপইয়ার্ডগুলো কানাডিয়ান নকশার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে এবং পরে নির্মাণকাজ একটি মার্কিন শিপইয়ার্ডে হস্তান্তর করে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দেশীয় জাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার অভাবের ফলে নৌবাহিনীর অর্ডারের ক্ষেত্রে বিশাল জট তৈরি হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, “দুর্বল জাহাজ নির্মাণ শিল্প ভিত্তি এবং এর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সরবরাহকারী গোষ্ঠীর হ্রাস পাওয়ায় বিলম্ব বেড়েছে এবং খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে

ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে জাহাজ নির্মাণ সম্প্রসারণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বিদেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ আউটসোর্স করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। পেন্টাগন তার ২০২৭ সালের বাজেটে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে যুদ্ধজাহাজের নকশা ও নির্মাণ আউটসোর্স করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষার জন্য ১.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ইউএসএনআই নিউজের মতে, জুলাই মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প এবং তার তুর্কি প্রতিপক্ষ রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের মধ্যে বৈঠকের পর ইস্তাম্বুল-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেটটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিন্তু বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প রয়েছে এমন রাজ্যগুলোর আইনপ্রণেতারা বিদেশি যুদ্ধজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের প্রচেষ্টাকে বাধা দিতে চাইছেন।

জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ৫,৫০০-টন ওজনের মোগামি-শ্রেণির ফ্রিগেটটিতে উচ্চ মাত্রার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাসহ একটি স্টিলথ হাল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই শ্রেণির ১১টি জাহাজের জন্য ২০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (১৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের অর্ডার দিয়েছে – যার প্রথম তিনটি জাপানে এবং বাকি আটটি অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি হবে।

৪,৩০০-টন ওজনের চুংনাম-শ্রেণির ফ্রিগেটটি হলো দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বশেষ সংযোজন, যা হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকে ওশানপ্ল্যান্ট এবং হানওয়া ওশান তৈরি করেছে। বিগত কয়েক বছরে মার্কিন নৌবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা এই শিপইয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করেছেন।

হানওয়া ওশান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফিলাডেলফিয়ার ফিলি শিপইয়ার্ড কিনে নেয় এবং এই স্থাপনাটির আধুনিকায়ন ও পুনরুজ্জীবনের জন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। মার্কিন নৌবাহিনী এর আগেও বিদেশি নকশা ও বিনিয়োগের দিকে নজর দিয়েছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো কনস্টেলেশন-শ্রেণির ফ্রিগেট কর্মসূচি।

ফ্রিগেটটি মূলত একটি ইতালীয় নকশার উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ার কথা ছিল এবং ইতালীয় জাহাজ নির্মাতা ফিনকান্টিয়েরি দেশীয়ভাবে জাহাজগুলো নির্মাণের জন্য একটি মার্কিন শিপইয়ার্ডে বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু ব্যাপক নকশা পরিবর্তন, শ্রমিকের অভাব, বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিলম্বের কারণে এটি বাতিল করা হয়। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন কেবল দুটি হালের কাজ চলতে থাকবে, কিন্তু প্রথম জাহাজটি ২০২৯ সালের আগে সরবরাহ করা হবে না। এটি এই বছর সরবরাহ করার কথা ছিল।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে অনূদিত